আজকে আমরা বারোমাসি লেবু চাষ পদ্ধতি, টবে ও মাটিতে লেবুর বাম্পার ফলনের সিক্রেট নিয়মগুলো নিয়ে আলোচনা করবো। বর্তমান সময়ে শহর কিংবা গ্রামে সবজায়গার মানুষ খাবারের সাথে লেবু রাখতে পছন্দ করে এটি আমাদের দৈনন্দিন ভিটামিন-সি এর চাহিদা পূরণ করতে সাহায্য করে।
বাসায় খাওয়ার জন্য অনেকে বারোমাসি লেবু চাষ করে থাকে যার ফলে বছরের সবসময় গাছে লেবু থাকে এবং পরিবারের ভিটামিন-সি এর চাহিদা অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব হয়। এছাড়া বানিজ্যিক ভাবে বারোমাসি লেবু চাষ এখন খুবই লাভজনক এবং বাংলাদেশে খুবই জনপ্রিয় হচ্ছে।
আবার শহর অঞ্চলের মানুষ এই বারোমাসি লেবু চাষ করছে বাসার ছাদে টবে যেহেতু আবাদি জমি দিন দিন কমে যাচ্ছে তাই এই উপায়ে অনেকে লেবু চাষ করছে। আবার গ্রামের অনেক বেকার যুবক বারোমাসি লেবুর বাগান করে নিজেরা স্বচ্ছলতা লাভ করছে।
সঠিকভাবে বারোমাসি লেবু চাষ পদ্ধতি শিখে সঠিক জাত নির্বাচন করে যদি লেবু চাষ করতে পারেন তাহলে এখান থেকে প্রচুর পরিমানে মুনাফা অর্জন করতে পারবেন।
বারোমাসি লেবুর জাত
আপনি যদি বারোমাসি লেবু চাষ করে লাভবান হতে চান তাহলে প্রথমেই বারমাসি লেবুর জাত নির্বাচন করতে হবে নির্ভুল ভাবে। আপনি যদি প্রথমেই জাত নির্বাচনে ভুল করেন তাহলে ভালো ফলন পাবেন না।
তাই বারোমাসি লেবুর জাত নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে ৩ টি বারোমাসি লেবুর জাত দেয়া হলো।
জাত ১ঃ চায়না-৩ বা কাগজি লেবু
বারোমাসি লেবুর এই জাতটি বাংলাদেশে অনেক জনপ্রিয় এবং প্রায় সব অঞ্চলেই চাষ করা হয়। এই লেবুর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর রস হয় প্রচুর এবং চামড়া কাগজের মতো পাতলা আর সাথে সুঘ্রাণ তো আছেই।
চায়না-৩ জাতের লেবু গাছেও প্রচুর পরিমানে থোকায় থোকায় ধরে এবং এই জাতের লেবু গাছের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি হওয়ার কারনে সারা বছর ফলন দিয়ে থাকে। মজার বিষয় হলো আমি নিজেই আমার বাসার ফাঁকা জমিতে এই জাতের ৪ টি গাছ রোপণ করেছি।
জাত ২ঃ সিডলেস বা বীজহীন লেবু
আপনি যদি বারোমাসি লেবু চাষ করতে চান তাহলে আপনার জন্য সেরা জাত হলো সিডলেস বা বীজহীন লেবু এই লেবুর চাহিদা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি। কারন এই লেবুর বীজ থাকেনা এবং রস অনেক বেশি হয়ে থাকে যার ফলে এর চাহিদা সবসময় বেশি থাকে।
জাত ৩ঃ এলাচি লেবু
এই জাতের লেবু বা লেবুর পাতা হাতে ঘষলে এলাচের মতো সুগন্ধ বের হয় যার কারনে এই লেবুর নাম এলাচি লেবু। আপনি যদি বাসার ছাদে বারমাসি লেবু চাষ করতে চান তাহলে এই লেবুর জাতটি আপনার জন্য সবথেকে উপযোগী।
এই লেবু ছাদে টবে ও হাফ ড্রামে চাষ করা যায় এবং খুব দ্রুত এর গাছ বেড়ে উঠে এবং লেবুর সাইজ অন্যান্য জাতের থেকে বড় হয়ে থাকে এবং সারাবছর পরিবারের লেবুর চাহিদা পুরোন করে।
লেবু চাষের জন্য মাটি তৈরি ও জমি প্রস্তুতকরণ
বারোমাসি লেবু চাষ পদ্ধতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাটি তৈরি ও জমি প্রস্তুত করা। আপনি যদি টবে ও মাটিতে লেবুর বাম্পার ফলন পেতে চান তাহলে প্রথম শর্ত সঠিক উপায়ে লেবু চাষের জন্য মাটি তৈরি ও জমি প্রস্তুতকরণ।
নিচে সঠিকভাবে ফসলি জমি এবং ছাদ বাগানের টবে মাটি তৈরি এবং মাটি তৈরির সঠিক অনুপাত ও পদ্ধতি দেয়া হলো।
ছাদ বাগানে টবের জন্য মাটি তৈরি
আপনি যদি ছাদ বাগানে বারোমাসি লেবু চাষ করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে ছাদ বাগানে টবে ও ড্রামে লেবু চাষের জন্য আদর্শ মাটির মিশ্রণ প্রস্তুত করতে হবে। নিচে মাটির সঠিক অনুপাত ও পদ্ধতি দেয়া হলো।
| ক্রমিক নং |
উপকরণ |
শতকরা পরিমাণ |
| ১ |
দোআঁশ বা বেলে দোআঁশ মাটি |
৫০% |
| ২ |
গোবর সার বা কম্পোস্ট সার (জৈব সার) |
৩০% |
| ৩ |
নারিকেলের ছোবড়া বা কোকোপিট |
১০% |
| ৪ |
নদীর লাল বা সাদা বালু |
১০% |
বাম্পার ফলনের সিক্রেট গাইডঃ মটির গুণাগুণ আরো বাড়াতে ফসফরাসের উৎস হাড়ের গুড়ো প্রতি টব বা ড্রামের জন্য দুই চামচ মেশাবেন সাথে মাটি থেকে পোকামাকড় দূর করতে নিমের খৈল ২ চামচ মিশিয়ে টব সহ মাটি ১০ থেকে ১২ দিন ছায়ায় রেখে দিবেন।
জমিতে বারোমাসি লেবু চাষের জন্য জমি প্রস্তুতকরণ
আপনি যখন বানিজ্যিক ভাবে জমিতে বারোমাসি লেবু চাষ করবেন তখন প্রথমে আপনার জমি সমান করতে হবে এক্ষেত্রে জমিতে ২ থেকে ৩ বার গভীর চাষ ও মই দিতে হবে।
যখন দেখবেন গোটা জমি সমান হয়েছে তখন আপনার জমিতে নির্দিষ্ট পরিমান দূরত্বে মাদা বা গর্ত করতে হবে।
- গর্তের সাইজঃ বারোমাসি লেবুর চারা রোপণ করতে মাদা বা গর্তের সাইজ অবশ্যই ২×২×২ অর্থাৎ দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতা ২ ফিট করে রাখতে হবে।
- মাটি ও সারের মিশ্রণঃ গর্ত খোঁড়ার পরে যেই মাটি বের হবে সেই মাটির সাথে ২০০ গ্রাম টিএসপি, ১০০ গ্রাম পটাস এবং ১৫ কেজি কম্পোস্ট সার বা পচা গোবর মিশিয়ে আবার গর্ত ভরাট করে ১০ থেকে ১২ দিন রেখে দিতে হবে এবং এর পরে লেবু চারা গর্তের মাঝে লাগাতে হবে।
লেবুর চারা রোপণ ও পাত্র বা টব নির্বাচন
বারোমাসি লেবু চাষ পদ্ধতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো লেবুর চারা রোপণ ও পাত্র বা টব নির্বাচন করা। আপনাদের জন্য নিচে চারা রোপণের সঠিক নিয়ম এবং পাত্র বা টব নির্বাচনের নিয়ম দেয়া হলো।
চারা নির্বাচন
লেবুর চারা রোপণের আগে আপনাকে সঠিক চারা নির্বাচন করতে হবে যদি ভালো চারা রোপণ না করেন তাহলে যতো ভালো ভাবে চারা রোপণ করেন না কেনো ফসল ভালো হবেনা। তাই অবশ্যই ভালো ফসল পেতে কলমের চারা নির্বাচন করতে হবে।
কিন্তু যদি আপনি কলমের চারা রোপণ করেন তাহলে ৬ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে লেবু গাছে প্রচুর পরিমানে লেবু পাবেন। তাই বানিজ্যিক ভাবে লেবু চাষ করতে হলে অবশ্যই বীজের গাছ এড়িয়ে চলুন।
ছাদ বাগানের জন্য পাত্র বা টব নির্বাচন
লেবু গাছের ছাদ বাগানের জন্য আপনাকে ১৮ থেকে ২০ ইঞ্চি টব বা হাফড্রাম ব্যবহার করতে হবে। ছাদ বাগানে বারোমাসি লেবু চাষ করতে হলে টবে অবশ্যই ২ থেকে ৩ টি ফুটা রাখবেন যেনো পানি নিষ্কাশন খুবই ভালোভাবে হতে পারে কারন লেবু গাছের জন্য অতিরিক্ত পানি জমে থাকা ক্ষতিকর।
লেবুর চারা রোপণের সঠিক নিয়ম ও সময়
লেবু চারা রোপণের সময় ব্লেড দিয়ে আগে চারার পলিথিন সাবধানে কেটে নিতে হবে এর পরে মাটিসহ চারা তৈরি করা গর্ত বা মাদায় আর ছাদ বাগানে হলে টব বা ড্রামের মাঝখানে বসিয়ে দিয়ে গোড়া হাত দিয়ে চেপে ভালো ভাবে রোপণ করে দিতে হবে এবং চারা রোপণ করার পরে ভালো করে সেচ দিয়ে দিতে হবে।
জমিতে লেবুর চারা রোপণের সঠিক সময় সাধারণত বর্ষাকালে অর্থাৎ মে থেকে সেপ্টেম্বর মাসে তবে ছাদ বাগানে পর্যাপ্ত সেচ দেয়ার ব্যবস্থা থাকলে বছরের যেকোনো সময় লেবুর চারা রোপণ করতে পারবেন।
লেবু গাছে বাম্পার ফলন পাওয়ার সার ব্যবস্থাপনা
আপনি যদি আপনার লেবু গাছে বাম্পার ফলন পেতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে জমিতে বা টবে সার ভালোভাবে ব্যবস্থাপনা করতে হবে। এটি বারোমাসি লেবু চাষ পদ্ধতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ কারন গাছকে সুষম পুষ্টি ও সার সঠিকভাবে না দিলে গাছ পুষ্টির অভাবে পড়বে এবং ফলন কম দিবে।
যেহেতু লেবুর গাছে বেশি পরিমাণে পুষ্টির প্রয়োজন হয় তাই আপনি যদি সঠিক সময়ে সঠিক সার প্রয়োগ করতে না পারেন তাহলে আপনার ফলন কম আসার পাশাপাশি লেবুর সাইজ অনেক ছোট হবে।
জৈব সার
আপনার বারোমাসি লেবু চাষ পদ্ধতিতে জৈব সার অনেক গুরুত্বপূর্ণ কারন গাছের নিয়মিত পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতে নিয়মিত সঠিক পরিমাণে জৈব সার প্রয়োগ করতে হয়।
প্রতি মাসে ৫০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি পরিমাণ জৈব সার অর্থাৎ গোবর পচা সার অথবা কেঁচো সার ছাদ বাগানের প্রতিটি টবে ও জমিতে হলে প্রতিটি মাদায় মাটি কিছুটা তুলে সেই মাটির সাথে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে।
সরিষার খৈল পচা তরল সারঃ গাছের নাইট্রোজেনের অভাব পূরণ করে গাছে দ্রুত ডালপালা ও ফুল নিয়ে আসতে সরিষার খৈল পানিতে ৪ থেকে ৫ দিন পচিয়ে গাছের গোড়ায় ১৫ দিন পর পর দিতে হবে।
রাসায়নিক সার
বছরে একটি বারোমাসি লেবু গাছে অন্ততপক্ষে ৩ বার রাসায়নিক সার দিতে হবে এক্ষেত্রে বর্ষাকালের আগে এবং পরে একবার করে এবং শীতকালের শেষে একবার এই সার দিতে হবে। নিচে একটি লেবু গাছের জন্য সারের আদর্শ অনুপাত দেয়া হলো।
- টিএসপিঃ গাছের শেকড় মজবুত করতে ৫০ থেকে ৭০ গ্রাম করে দিতে হবে।
- পটাশ বা এমওপিঃ লেবু গাছের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে ৫০ গ্রাম থেকে ৬০ গ্রাম পটাশ বা এমওপি সার দিতে হবে।
- জিপসামঃ গাছের ক্যালসিয়ামের অভাব পূরণ করতে এবং মাটির অম্লতা দূর করতে জিপসাম সার ৩০ থেকে ৪০ গ্রাম দিতে হবে।
- ইউরিয়াঃ লেবু গাছ দ্রুত বৃদ্ধি করতে ইউরিয়া সার ৩০ থেকে ৪০ গ্রাম দিতে হবে।
বোনাস টিপসঃ আপনি যখন রাসায়নিক সার দিবেন তখন অবশ্যই গাছের গোড়া থেকে ৬ থেকে ১২ ইঞ্চি দূরে দিবেন এবং সার দেয়ার পরে সেচ দিয়ে দিবেন।
বাম্পার ফলনের সিক্রেট গাইড
উপরোক্ত সার প্রয়োগ করার পরেও অনেকের দেখা যায় লেবু ছোট হচ্ছে এবং রস কম হচ্ছে এটির কারণ হলো গাছের অনুখাদ্য বা Micro-nutrients এর অভাব। তাই লেবুকে রসে টইটম্বুর এবং সাইজে বড় করে গাছে অনুখাদ্য প্রদান করতে হবে।
গাছের অনুখাদ্য হলো বোরন ও দস্তা এগুলো প্রতিবছর দুইবার বর্ষার শুরুতে এবং গাছে ফুল আসার আগে দিতে হবে। দেয়ার নিয়ম হলো প্রতি এক লিটার পানিতে ২ গ্রাম সলুবোর বোরন বা বোরন প্লাস ও ১ গ্রাম চিলেটেড জিংক বা দস্তা মিশিয়ে পুরো গাছে স্প্রে করে দিতে হবে।
এটি যদি আপনি করতে পারেন তাহলে আপনার বারোমাসি লেবু গাছে অনেক বড় বড় সাইজের লেবু হওয়ার পাশাপাশি লেবু গুলো রসে টইটম্বুর হয়ে যাবে।
ফুল ও গুটি ঝরে যাওয়া সমস্যা ও সমাধান
আমাদের অনেক বারোমাসি লেবু চাষিরা লেবু চাষ করতে গিয়ে একটি সমস্যায় পড়েন লেবু গাছে ফুল প্রচুর আসে কিন্তু সেগুলো টিকে না।
অর্থাৎ ফুল ঠিকই আসে তবে ফুল আসার পরে সেগুলি ঝরে যায় আবার ফুল থেকে গুটি আসলেও হঠাৎ দেখা যায় কালো হয়ে শুকিয়ে পড়ে যাচ্ছে। আমরা নিচে এই সমস্যা কেনো হয় এবং কিভাবে সমাধান করবেন তা দিলামঃ
ফুল ও গুটি ঝরে যাওয়ার প্রধান কারণ
- ছত্রাকের আক্রমণঃ লেবু গাছে একধরনের ছত্রাকের আক্রমণের ফলে গাছের ফুল ও গুটির গোড়া পচে গিয়ে ঝরে যায়।
- অনিয়মিত পানি সেচঃ বারোমাসি লেবু গাছে ফুল যখন আসে সেই সময় যদি আপনি হঠাৎ করে বেশি পানি সেচ দেন অথবা পানি না দিয়ে গাছের গোড়া শুকিয়ে ফেলেন তাহলে গাছ শকে বা মানসিক চাপে সব ফুল ফেলে দিবে।
- হরমোন ও পুষ্টির অভাবঃ লেবু গাছের মাটিতে পর্যাপ্ত পরিমানে অনুখাদ্য যেমন, ক্যালসিয়াম ও বোরনের অভাব থাকলে গুটি ঝরে যায়।
ফুল ও গুটি ঝরে যাওয়া সমস্যার সমাধান
বারোমাসি লেবু চাষ করে বাম্পার ফলন পেতে ফুল ও গুটি যেনো ঝরে না যায় তার জন্য নিচে দেয়া দুইটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে। এগুলো বারোমাসি লেবু চাষ পদ্ধতির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
- ধাপ ১ঃ আপনার লেবু গাছে যখন ফুল ধরা দেখবেন তখন প্রতি ১ লিটার পানিতে ভালো মানের ছত্রাক নাশক ২ গ্রাম দিবেন সাথে বোরন প্লাস বা সলুবোর বোরন ২ গ্রাম মিশিয়ে গোটা গাছে স্প্রে করে দিবেন।
- ধাপ ২ঃ ফুলের পরে যখন আপনার বারোমাসি লেবু গাছে গুটি ধরতে দেখবেন ঠিক সেই সময়ে পূনরায় একই মিশ্রণ পুরো গাছে স্প্রে করবেন।
বোনাস টিপসঃ খেয়াল রাখবেন আপনার লেবু গাছে যখন ফুল ভালোভাবে ফুটে যাবে তখন কোনো কীটনাশক ব্যবহার করবেন না। যদি করেন তাহলে কীটনাশকের জন্য পরাগায়ণ ঘটানো কোনো মৌমাছি ফুলে বসতে পারবেনা ফলে লেবু কম ধরবে। এসময়ে আপনি গাছের গোড়া হালকা ভেজা অবস্থায় রাখবেন।
লেবু গাছের রোগবালাই ও পোকা দমন
আপনার লেবু গাছে যদি সঠিক সময়ে সঠিক উপায়ে রোগবালাই ও পোকা দমন করতে না পারেন তাহলে আপনার গাছের বেড়ে উঠা থমকে যাবে। গাছের লেবুর সাইজ ছোট হবে এবং সেগুলো বাজারে বিক্রয় করে লাভবান হতে পারবেন না। তাই নিচে লেবু গাছের রোগ এবং পোকা দমন করার উপায় দেয়া হলো।
লেবুর ক্যাঙ্কার রোগ ও প্রতিকার
আপনার বারোমাসি লেবুর গাছের পাতা, ডাল এবং ফলের উপর যদি ছোট ছোট ক্ষতের দাগের মতো দেখতে পান এবং এগুলের রং বাদামী বা ধুসর রংয়ের হয় তাহলে বুঝবেন আপনার লেবু গাছে ক্যাঙ্কার রোগ হয়েছে। এই রোগের প্রতিকার নিচে দেয়া হলোঃ
প্রতিকার ও ব্যবহারের নিয়ম
প্রথমেই আপনাকে আক্রান্ত ডাল, পাতা ও ফল ছেটে ফেলে পুড়িয়ে দিতে হবে এর পরে বাজার থেকে ভালো ছত্রাক নাশক কিনে এনে প্রতি ১ লিটার পানির সাথে ২ গ্রাম মিশিয়ে ১০ থেকে ১২ দিন পর পর গোটা গাছে স্প্রে করে দিতে হবে।
পাতা সুরঙ্গকারী পোকা (Leaf Miner)
আপনার বারোমাসি লেবু গাছে যখন নতুন পাতা আসতে শুরু করবে তখন এই পোকার আক্রমণ সবথেকে বেশি লক্ষ করতে পারবেন। এই পোকাগুলো পাতার মাঝখানের সবুজ অংশ খেয়ে ফেলে যার ফলে পাতা কুঁকড়ে ঝরে পড়ে যায়।
পোকা দমন করার উপায় ও সাধারণ পরামর্শ
পাতা সুরঙ্গকারী পোকা থেকে আপনার লেবু গাছ বাঁচাতে এই পোকার আক্রমণ যদি কম হয় তাহলে প্রতি ১ লিটার পানিতে ২ মিলি নিমের রস ও সামান্য ডিশ ওয়াসার মিশেয়ে স্প্রে করলেই হবে।
তবে আক্রমণ যদি অনেক তীব্র হয় তাহলে বাজার থেকে কীটনাশক কিনে এনে প্রতি ১ লিটার পানিতে ০.৫ মিলি মিশিয়ে বিকেল করে স্প্রে করতে হবে এতে করে গাছের পাতা কোঁকড়ানো সমস্যা ভালো হবে এবং গাছ দ্রুত বড়ো হবে।
সাধারণ জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন ১ঃ একটি বারোমাসি লেবু গাছ লাগানোর কত মাস পর থেকে ফলন দেওয়া শুরু করে?
উত্তরঃ আপনি যদি নার্সারি থেকে কলমের চারা কিনে গাছ লাগান তাহলে ৬ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে লেবু ধরে।
প্রশ্ন ২ঃ লেবু গাছের পাতা হলুদ হয়ে যাচ্ছে কেন?
উত্তরঃ লেবু গাছের পাতা যদি হলুূদ হয়ে যায় তার অর্থ হলো গাছ নাইট্রোজেনের অভাবে ভুগছে অথবা গাছের গোড়ায় পানি জমে আছে।
প্রশ্ন ৩ঃ টবের লেবু গাছ কত বছর পর পর রি-পট (মাটি পরিবর্তন) করতে হয়?
উত্তরঃ টবের লেবু গাছ ২ বছর পর পর বর্ষাকালে রি-পট বা মাটি পরিবর্তন করতে হয়।
শেষকথা
আশা করি আজকের পোস্ট পড়ে বারোমাসি লেবু চাষ পদ্ধতি: টবে ও মাটিতে লেবুর বাম্পার ফলনের নিয়ম জানতে পেরেছেন। আমাদের বলে দেয়া প্রতিটি নিয়ম অনুসরণ করে যদি লেবু চাষ করেন তাহলে আপনি লেবু চাষ করে লাভবান হতে পারবেন।
Di
sclaimer: আমরা অফিসিয়াল সোর্স থেকে তথ্য নিয়ে আপনাদের সুবিধার্থে সহজভাবে লেবু চাষের পদ্ধতি জানিয়েছি। আপনি লেবু চাষ করার আগে অবশ্যই উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করুন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করুন
কৃষি সম্পর্কিত আরো পোস্ট দেখুনঃ