মোটরসাইকেল মালিকানা পরিবর্তন ফি কত ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং নিয়ম ২০২৬
এই পোস্টে মোটরসাইকেল মালিকানা পরিবর্তন ফি কত এবং মোটরসাইকেল মালিকানা পরিবর্তন করতে কী কী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দরকার হয় ২০২৬ সালে তা জানবো।
কেনো মোটরসাইকেল মালিকানা পরিবর্তন করতে হবে?
আমরা যখন পুরনো মোটরসাইকেল ক্রয় বিক্রয় করি তখন মালিকানা পরিবর্তন করার প্রয়োজন হয়। অনেকসময় ওয়ারিশ সূত্রেও গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন করার প্রয়োজন হয়ে থাকে। মোটরসাইকেলের মালিকানা পরিবর্তন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ।
কারন মোটরসাইকেল ক্রয় বিক্রয়ের পরে মালিকানা পরিবর্তন না করলে আইনি জটিলতা তৈরি হয়। এছাড়াও আপনার বিক্রি করা মোটরসাইকেল আপনার নামে রেজিস্ট্রেশন থাকলে সেই মোটরসাইকেল দিয়ে কোনো অপরাধ সংগঠিত হলে তার দায় আপনার উপরেই আসবে।
এছাড়াও আপনার নামে রেজিস্ট্রেশন করা গাড়ি কোথাও জরিমানা খেলে বর্তমান মালিক সেই জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে আপনার নামে মামলা হয়ে যাবে। তাই মোটরসাইকেল মালিকানা পরিবর্তন করা জরুরি।
এই লেখনীতে আমরা আলোচনা করবো মোটরসাইকেল মালিকানা পরিবর্তন ফি কত ও মালিকানা পরিবর্তন করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং কিভাবে মালিকানা পরিবর্তন করবেন ২০২৬ সালে এসে।
মোটরসাইকেল মালিকানা পরিবর্তন বলতে কী বুঝায়?
মোটরসাইকেল মালিকানা পরিবর্তন বলতে বুঝায় আমরা যখন পুরাতন মোটরসাইকেল ক্রয় করি তখন পূর্বের মালিকের নামে রেজিস্ট্রেশন পরিবর্তন করে আপনার নামে রেজিস্ট্রেশন করা। অর্থাৎ গাড়ির রেজিস্ট্রেশনে আগের মালিকের নাম পরিবর্তন করে নতুন মালিকের নাম দেয়া।BRTA মোটরসাইকেলসহ সকল গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন বাধ্যতামূলক করেছে। এর কারন হলো নাম পরিবর্তন না করলে গাড়িটি পূর্বের মালিকের নামেই থেকে যায় এবং পরবর্তীতে নতুন মালিক ট্যাক্স টোকেন নবায়ন নিজের নামে করতে পারেনা।
আবার গাড়িটি দূর্ঘটনার শিকার হলে আসল মালিক খুঁজে পেতে সমস্যা হয়ে যায়। গাড়ি দিয়ে কোনো অপরাধ সংগঠিত হলে আসল অপরাধীদের খুঁজে পেতে সমস্যা হয়ে থাকে।
মোটরসাইকেল মালিকানা পরিবর্তন ফি কত ২০২৬
মালিকানা পরিবর্তন ফি সিসি ভেদে আদালা হয়ে থাকে নিতে দেয়া হলো।
সিসি ভেদে মোটরসাইকেল মালিকানা পরিবর্তন ফি ২০২৬
মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের সিসি অনুযায়ী মালিকানা পরিবর্তন ফি কম বা বেশি হয়ে থাকে । নিচে সিসি ভেদে মোটরসাইকেল মালিকানা পরিবর্তন ফি কতো টাকা হতে পারে তা দেয়া হলো।
| মোটরসাইকেল ইঞ্জিনের সিসি | সম্ভাব্য মোট ফি (মালিকানা পরিবর্তনসহ অফিস চার্জ) |
|---|---|
| ১০০ সিসি পর্যন্ত | ৪২০০ টাকা |
| ১০০ সিসির উপরে | ৫৬০০ টাকা |
(বিঃ দ্রঃ চুড়ান্ত মালিকানা পরিবর্তন ফি BRTA এর সর্বশেষ হালনাগাদ কৃত ফি অনুযায়ী পরিবর্তন হতে পারে)
এখানে পুরোপুরি সিওর ভাবে কতো টাকা মালিকানা ফি হতে পারে তা বলা সম্ভব নয় এটা শুধুমাত্র একটা ধারনা দেয়া হয়েছে।
এখান থেকে অল্প কিছু পরিবর্তন হতে পারে কারন একেক বিআরটিএ অফিসের একেক ধরনের অফিস চার্জ থাকতে পারে এটা নির্ভর করছে আপনি কোন অঞ্চলে মালিকানা পরিবর্তন করছেন।
মালিকানা পরিবর্তন করতে কী কী কাগজপত্র লাগে?
সাধারনত মোটরসাইকেল মালিকানা পরিবর্তন করতে বেশকিছু কাগজপত্র লাগে। সেগুলো নিচে দেয়া হলো।
বিক্রেতার পক্ষ থেকে
- রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট
- জাতীয় পরিচয়পত্র
- বিক্রয় চুক্তিপত্র
ক্রেতার পক্ষ থেকে
- NID
- ছবি
- মোবাইল নম্বর
- ঠিকানার প্রমাণ
মোটরসাইকেল মালিকানা পরিবর্তনের ধাপে ধাপে নিয়ম
মোটরসাইকেল মালিকানা পরিবর্তনের নিয়ম নিচে ধাপে ধাপে দেয়া হলো।
ধাপ ১: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ
প্রথমে আপনাকে মালিকানা পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন গাড়ির অর্জিনাল রেজিস্ট্রেশনের কাগজ, বর্তমান মালিকের জাতীয় পরিচয় পত্র এবং বিক্রি করার সময় করা ডিড বা চুক্তিপত্রের কাগজ।
এছাড়াও যে কিনছে তার জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি, মোবাইল নম্বর এবং স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণ পত্র সাথে রাখতে হবে।
ধাপ ২: নির্ধারিত ফি জমা
মালিকানা পরিবর্তনের জন্য নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে রশিদ গ্রহণ করতে হবে।
ধাপ ৩: BRTA আবেদন
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি জমা দেয়ার ব্যাংক রশিদসহ BRTA তে আবেদন করতে হবে।
ধাপ ৪: বায়োমেট্রিক ও যাচাই
আবেদন করার পরে BRTA থেকে ডেট দিলে সেই ডেটে গিয়ে ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়ে যাচাই বাছাই করে নিতে হবে।
ধাপ ৫: নতুন রেজিস্ট্রেশন স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ
সবকিছু হয়ে গেলে নির্দিষ্ট সময় পরে নতুন মালিকের নামে রেজিস্ট্রেশন স্মার্ট কার্ড BRTA অফিস থেকে সংগ্রহ করতে হবে।
মোটরসাইকেল মালিকানা পরিবর্তন করতে BRTA মালিকানা পরিবর্তন গাইডলাইন দেখে নিন। BRTA Ownership Transfer Guidelines
অনলাইনে মালিকানা পরিবর্তনের আবেদন করা যায় কি?
হ্যাঁ, অনলাইনের মাধ্যমে আপনি মালিকানা পরিবর্তনের আবেদন করতে পারবেন। অনলাইনে আবেদন করতে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে। যেমন,
- BRTA Service Portal ব্যবহার করা
- পূর্বে অ্যাকাউন্ট করা না থাকলে অ্যাকাউন্ট খোলা
- আবেদন জমা দেয়া
- স্ট্যাটাস ট্র্যাক করা
মালিকানা পরিবর্তন করতে কতদিন সময় লাগে?
মালিকানা পরিবর্তন করতে সাধারণত ১৫-৩০ দিন সময় লাগতে পারে তবে অফিসিয়াল কাজ যেহেতু তাই অনেকের ক্ষেত্রে এই সময় আরো লম্বা হতে পারে। অনেক সময় কাজ দ্রুত হলে ৭-১০ দিনের মধ্যেও মালিকানা পরিবর্তন করা হয়ে যায়।
আপনি চাইলে বিআরটিএ এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার আবেদনের সবশেষ আপডেট জানতে পারবেন। এক্ষেত্রে বিআরটিএ এর সার্ভিস পোর্টালে লগ-ইন করে আবেদন স্ট্যাটাস চেক করতে হবে।
মালিকানা পরিবর্তন না করলে কী সমস্যা হতে পারে?
মোটরসাইকেল মালিকানা পরিবর্তন ফি কত ও মালিকানা পরিবর্তন করতে কী কী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দরকার হয় ২০২৬ সালে আমরা জেনেছি। এখন মালিকানা পরিবর্তন না করলে কী সমস্যা হতে পারে তা জানাবো।
মালিকানা পরিবর্তন না করলে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে ক্রেতা এবং বিক্রেতাকে। যদি মালিকানা পরিবর্তন না করে ক্রেতা গাড়ি চালানোর সময় ট্রাফিক পুলিশ গাড়ি কাগজপত্র চেক করে তাহলে অন্যের নামে মালিকানা গাড়ি চালানোর জন্য মামলা বা জরিমানা হবে।
পুরনো মালিকের নামে বিমা করা থাকলে সেই সুবিধা থেকে নতুন মালিক বঞ্চিত হবেন এবং তিনি পুনরায় গাড়ি বিক্রয় করতে পারবেন না। কারন বিক্রয় করতে হলে মালিকানা পরিবর্তনের জন্য তার নিজের নামে গাড়িটি থাকতে হবে।
সবচেয়ে বড় জটিলতায় পড়তে পারেন পুরনো মালিক কারন সেই গাড়িটি ব্যবহার করে যদি কোনো অপরাধ সংগঠিত হয় তাহলে সেই অপরাধের দোষী হবেন যার নামে গাড়ি রেজিস্ট্রেশন থাকবে সে ব্যক্তি।
ব্যবহৃত মোটরসাইকেল কেনার আগে যেগুলো যাচাই করবেন
ব্যবহৃত বা পুরাতন মোটরসাইকেল কেনার আগে অবশ্যই কিছু বিষয় চেক করে নিবেন। যেমন,
রেজিস্ট্রেশন কার্ড
ব্যবহৃত মোটরসাইকেল কেনার আগে অবশ্যই দেখবেন বিক্রেতার নামে গাড়িটি রেজিস্ট্রেশন আছে নাকি।
ট্যাক্স টোকেন
গাড়ির ট্যাক্স টোকেন অবশ্যই বৈধ হালনাগাদ থাকতে হবে।
ইঞ্জিন নম্বর
গাড়ির ইঞ্জিন নম্বর চেক করে নিবেন সেখানে কোনো টেম্পারিং করা হয়েছে নাকি ভালোভাবে যাচাই বাছাই করবেন।
চ্যাসিস নম্বর
ইঞ্জিন নম্বরের মতো চ্যাসিস নম্বর ভালোভাবে চেক করে নিবেন।
মামলা বা ব্ল্যাকলিস্ট আছে কি না
গাড়ি কেনার আগে অবশ্যই দেখবেন গাড়িটির নামে পূর্বের কোনো মামলা আছে নাকি যেটি এখনো জরিমানা দিয়ে পরিশোধ করা আছে নাকি অথবা গাড়িটি সরকারি ভাবে ব্ল্যাকলিস্টে আছে কি না।
BRTA অফিসে যাওয়ার আগে চেকলিস্ট
আপনি মোটরসাইকেলের মালিকানা পরিবর্তন করতে যাওয়ার আগে ভালোভাবে চেক করে নেন আপনার কাছে প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র আছে কি না। সঠিকভাবে ব্যাংকে মালিকানা পরিবর্তন ফি জমা হয়েছে কি না এবং সঠিকভাবে আবেদন ফর্ম পূরণ হয়েছে কি না।
শেষকথা
সময়মতো মোটরসাইকেল মালিকানা পরিবর্তন করা সকলের জন্য জরুরি কারন ক্রয় বিক্রয়ের পরে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। ক্রেতা বিক্রেতা উভয়েই মানসিকভাবে দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকতে হয়।
তাই ক্রয় বিক্রয়ের সাথে সাথে মোটরসাইকেল মালিকানা পরিবর্তন ফি কত টাকা হয় তা পরিশোধ করে মালিকানা পরিবর্তন করে নেয়া উত্তম।
FAQ
প্রশ্নঃ বিক্রেতা উপস্থিত না থাকলে কী হবে?
উত্তরঃ সাধারণত মোটরসাইকেল মালিকানা পরিবর্তন করতে বিক্রেতা উপস্থিত না থাকলে মালিকানা পরিবর্তন করা যায়না। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আবেদন করার শর্তে হতে পারে। এটিতে অনলাইন আবেদনের প্রয়োজন পড়তে পারে।
প্রশ্নঃ ট্যাক্স টোকেন বাকি থাকলে মালিকানা পরিবর্তন হবে?
উত্তরঃ সাধারণ ভাবে উত্তর দিলে ট্যাক্স টোকেন বাকি থাকলে মালিকানা পরিবর্তন হবেনা তবে ট্যাক্স পরিশোধ করে মালিকানা পরিবর্তন করা যাবে।
প্রশ্নঃ গাড়ির স্মার্ট কার্ড হারিয়ে গেলে কী করতে হবে?
উত্তরঃ প্রথমে থানায় জিডি করে ট্রাফিক এনওসি সংগ্রহ পূনরায় ফি জমা দিয়ে সব কাগজপত্র নিয়ে পূনরায় বিআরটিএ তে আবেদন করতে হবে।
প্রশ্নঃ NID ছাড়া গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন করা যায়?
উত্তরঃ না, NID বা জাতীয় পরিচয় পত্র ছাড়া গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন করা যায় না।
বিআরটিএ এর আরো কিছু সেবাঃ

Comments
Post a Comment