মন্টিনিগ্রো ইউরোপের অন্যতম সৌন্দর্যপূর্ণ একটি দেশ যার কারণে বর্তমানে মন্টিনিগ্রো ভ্রমণে যাওয়ার জন্য মানুষ খুবই আগ্রহ প্রকাশ করছে। আর এই জন্য আজকে ২০২৬ সালের বাংলাদেশিদের জন্য মন্টিনিগ্রো টুরিস্ট ভিসা আবেদন গাইড দিবো।
এছাড়াও আজকের পোস্টে আমরা মন্টিনিগ্রো টুরিস্ট ভিসা পাওয়ার সহজ নিয়ম ও ভিসা পেতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো।
বাংলাদেশিদের জন্য মন্টিনিগ্রো টুরিস্ট ভিসা কি চালু আছে?
বাংলাদেশিদের জন্য মন্টিনিগ্রো ভিসা চালু থাকলেও কিছু জটিলতা রয়েছে। বাংলাদেশে মন্টিনিগ্রোর স্থায়ী কোনো এম্বাসি বা দূতাবাস নাই তবে চিন্তার কোনো কারণ নেই। ঢাকায় অবস্থিত ভিএফএস গ্লোবালের অফিশিয়াল মন্টিনিগ্রো ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার রয়েছে।
আপনি যদি মন্টিনিগ্রো ভিসা পেতে চান তাহলে আপনার বৈধ সকল কাগজপত্রসহ ঢাকার এই অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে নিজে গিয়ে আবেদন করতে পারবেন।
(আপডেট নিউজঃ বর্তমানে ঢাকা ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের আবেদনগুলো আবুধাবিতে অবস্থিত মন্টিনিগ্রো এম্বাসিতে করা হচ্ছে)
মন্টিনিগ্রো একটি ইউরোপের বলকান অঞ্চলের দেশ হলেও এখন পর্যন্ত শেনজেন ভুক্ত রাষ্ট্র হয়নি। তবে তাদের ইমিগ্রেশন সিস্টেম অনুযায়ী বাংলাদেশের পাসপোর্ট ধারীদের পাসপোর্টে যদি শেনজেন অন্তর্ভুক্ত রাষ্ট্র মাল্টিপল ভ্রমণের রেকর্ড থাকে অথবা যুক্তরাষ্ট্র, আয়ারল্যান্ড বা ইউকে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা বা রেসিডেন্সিয়াল ভিসা থাকলে মন্টিনিগ্রোতে কেনো রকম ভিসা ছাড়াই প্রবেশ করতে পারবেন।
মন্টিনিগ্রো টুরিস্ট ভিসার প্রকারভেদ
মন্টিনিগ্রো আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং কতদিন থাকবেন তার উপর নির্ভর করে কয়েকটি ক্যাটেগরিতে ভিসা দিয়ে থাকে। এর মধ্যে বাংলাদেশিদের ভ্রমণ করার জন্য যে ভিসা দিয়ে থাকে সেটি হলো শর্ট-স্টে-ভিসা যা টাইপ-সি ক্যাটেগরিতে পড়ে এটি।
তবে মন্টিনিগ্রো সরকার মূলত চার ধরনের ভিসা প্রদান করে থাকে। যেগুলো নিচে দেয়া হলোঃ
| ভিসার ধরন | উদ্দেশ্য | স্থায়িত্ব / বিশেষত্ব |
|---|---|---|
| শর্ট-স্টে বা টুরিস্ট ভিসা (টাইপ-সি) | ব্যবসার কাজে, মন্টিনিগ্রোতে কোনো আত্মীয়ের আমন্ত্রণে, কনফারেন্সে অংশগ্রহণ, ছুটি কাটানো অথবা দর্শনীয় স্থান ভ্রমণের জন্য। | স্থায়িত্ব: এই টাইপ-সি ভিসার মাধ্যমে ১৮০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিন মন্টিনিগ্রোতে অবস্থান করা যায়।ভিসার ধরন: সিঙ্গেল এন্ট্রি (একবার প্রবেশ) অথবা মাল্টিপল এন্ট্রি (একাধিকবার প্রবেশ)। |
| এয়ারপোর্ট ট্রানজিট ভিসা | অন্য কোনো দেশে ভ্রমণের সময় মন্টিনিগ্রোর বিমানবন্দরে ট্রানজিট বা অপেক্ষা করার প্রয়োজন হলে এই ভিসা প্রদান করা হয়। | শুধুমাত্র মন্টিনিগ্রোর বিমানবন্দরের ট্রানজিট এলাকায় অবস্থান করা যাবে। বিমানবন্দর ত্যাগ করে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করা যাবে না। |
| ট্রানজিট ভিসা | সড়কপথে মন্টিনিগ্রোর ভূখণ্ড অতিক্রম করে অন্য কোনো দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই ভিসা প্রয়োজন হয়। | স্থায়িত্ব: সাধারণত এই ভিসার মাধ্যমে মন্টিনিগ্রোর ভূখণ্ডে সর্বোচ্চ ৫ দিন অবস্থান করা যায়। |
| লং-স্টে বা দীর্ঘমেয়াদি ভিসা | পড়াশোনা, ব্যবসা, চাকরি অথবা পরিবার পুনর্মিলনের মতো দীর্ঘমেয়াদি উদ্দেশ্যে মন্টিনিগ্রোতে যাওয়ার জন্য। সাধারণ পর্যটকদের জন্য নয়। | স্থায়িত্ব: এক বছরের মধ্যে ৯০ দিনের বেশি এবং সর্বোচ্চ ১৮০ দিন পর্যন্ত অবস্থান করা যায়। |
বাংলাদেশিদের জন্য মন্টিনিগ্রো টুরিস্ট ভিসা গাইড ২০২৬ (Step-by-Step Process)
বাংলাদেশিদের জন্য মন্টিনিগ্রো টুরিস্ট ভিসা আবেদন করতে বেশকিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন পত্র জমা দিতে হবে। নিচে বাংলাদেশিদের জন্য মন্টিনিগ্রো টুরিস্ট ভিসা গাইড ২০২৬ দেয়া হলো।
ধাপ-১: বাংলাদেশিদের জন্য মন্টিনিগ্রো টুরিস্ট ভিসা আবেদন করতে প্রথমেই মন্টিনিগ্রো দেশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ভিসা আবেদন ফর্ম নামাতে হবে। ফর্মটি নামিয়ে খুব সাবধানে নিখুঁত ভাবে ফর্মটি পূরণ করতে হবে।
ধাপ-২: প্রয়োজনীয় সকল কাগজ নিখুঁত ভাবে রেডি করে একসাথে আবেদন ফর্মের সাথে যুক্ত করে ফাইল তৈরি করতে হবে।
ধাপ-৩: ঢাকায় অবস্থিত ভিএফএস গ্লোবালে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে কারন বর্তমানে বাংলাদেশিদের ভিসা আবেদন গ্রহণ করার দায়িত্ব তাদের। ভিএফএসের ওয়েবসাইটে মন্টিনিগ্রোর ভিসা আবেদনের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুক করতে হবে।
ধাপ-৪: অ্যাপয়েন্টমেন্ট যেই তারিখে পাবেন সেই দিন পূরণ কৃত আবেদন ফর্ম এবং প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র সাথে নিয়ে গুলশানে অবস্থিত ভিএফএস এর অফিসে যেতে হবে।
এবার সেখানকার অফিসারকে প্রয়োজনীয় আপনার সকল কাগজপত্র জমা দিন সাথে আপনাকে বায়োমেট্রিক বা ফিঙ্গার প্রিন্ট দিতে হবে এবং মন্টিনিগ্রোর সরকারি ভিসা ফি ডিএফএস এর চার্জসহ কার্ডে অথবা ক্যাশ টাকাতে পরিশোধ করতে হবে।
ধাপ-৫: আপনার দেয়া কাগজপত্রের ফাইলটি আবুধাবি মন্টিনিগ্রো এম্বাসি বা দূতাবাসে যাবে তার পরে তারা যাচাই বাছাই করবে।
এর পরে যদি আপনাকে ভিসা প্রদান করে তাহলে আপনার ফোনে মেসেজ আসলে আপনার আবেদন পত্র জমা দিয়ে যে রশিদ পেয়েছিলেন সেটি নিয়ে গিয়ে পাসপোর্ট তুলে আনতে হবে।
মন্টিনিগ্রো ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (Documents Checklist)
মন্টিনিগ্রো টুরিস্ট ভিসা আবেদন করার সময় কাগজপত্র যদি নিখুঁত এবং সত্য তথ্য সম্বলিত হয় তাহলে আপনার আবদেন অ্যাপ্রুভ হবে। আপনি যদি কাগজপত্রে ভুল তথ্য প্রদান করেন তাহলে ভিসা আবেদন রিজেক্ট হয়ে যাবে।
সাধারণ কাগজপত্র
- পাসপোর্টঃ আপনার মূল পাসপোর্ট ভিসা আবেদনের সাথে জমা দিতে হবে পাসপোর্টে ন্যূনতম ৬ মাস মেয়াদ এবং দুইটা পাতা ফাঁকা থাকতে হবে। পূর্বের যদি আপনার কোনো পাসপোর্ট থেকে থাকে তাহলে সেটিও জমা দিতে হবে।
- ভিসা আবেদন ফর্মঃ মন্টিনিগ্রোর ভিসা পেতে তাদের সরকারি ওয়েবসাইট থেকে আবেদন ফর্ম নামিয়ে খুব ভালোভাবে সঠিক তথ্য দিয়ে ইংরেজি ভাষায় পূরণ করতে হবে।
- ছবিঃ ভিসা আবেদনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে দরকার হবে সম্প্রতি তোলা দুই কপি ছবি আর ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড অবশ্যই সাদা থাকতে হবে।
- এনআইডি কার্ড বা জন্ম নিবন্ধনঃ ভিসা আবেদন করতে এনআইডি কার্ডের ফটোকপি অথবা ইংরেজিতে লেখা জন্ম নিবন্ধনের কপি দরকার হবে।
ভ্রমণ সংক্রান্ত কাগজপত্র
- ফ্লাইট বুকিংঃ আবেদন ফর্মের সাথে আপনার মন্টিনিগ্রো ভ্রমণের যাওয়া এবং আসার টিকিটের কপি দিতে হবে।
- হোটেল বুকিংঃ মন্টিনিগ্রোতে আপনি যতোদিন থাকবেন ততোদিনের কনফার্মড হোটেল বুকিং এর কাগজপত্র।
- ট্যুর প্ল্যান বা ভ্রমণ পরিকল্পনাঃ আপনি মন্টিনিগ্রো গিয়ে কোথায় কবে ঘুরতে যাবেন কতদিন থাকবেন তার পুরো পরিকল্পনা সুন্দর করে গুছিয়ে লিখবেন।
- ভ্রমণ বীমাঃ ইউরোপীয় দেশগুলোতে গ্রহনযোগ্য এমন ইনস্যুরেন্স কোম্পানীর থেকে সর্বনিম্ন ৩০০০০ ইউরো কাভারেজসহ ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স বা ভ্রমণ বীমা করতে হবে।
আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রমাণ
- ব্যাংক স্টেটমেন্টঃ গত ৬ মাসের ব্যাংক লেনদেনের প্রমাণপত্র হিসেবে ব্যাংক স্টেটমেন্ট লাগবে সাথে অবশ্যই ভ্রমণ খরচের জন্য পর্যাপ্ত টাকা থাকতে হবে। জনপ্রতি ৩ লক্ষ টাকা থেকে ৫ লক্ষ টাকা রাখা সেফ।
- ব্যাংক সালভেন্সি সার্টিফিকেটঃ আপনার ব্যাংক থেকে একটি সালভেন্সি সার্টিফিকেট নিয়ে মূল কপি আবেদন ফর্মের সাথে সংযুক্ত করতে হবে।
পেশাগত প্রমাণপত্র
- চাকরিজীবীঃ আপনি যদি চাকরিজীবী হন তাহলে ভিসা আবেদন পত্রের সাথে আপনাকে আপনার প্রতিষ্ঠানের NOC দিতে হবে। সাথে গত ৩ মাসের চাকরির বেতনের পে-স্লিপ ও অফিস আইডি কার্ডের কপি দিতে হবে।
- ব্যবসায়ীঃ আপনি যদি ব্যবসায়ী হন তাহলে ইংরেজিতে লিখা নোটারি পাবলিক করা ট্রেড লাইসেন্সের কপি দিতে হবে এবং আপনার ব্যবসার ভিজিটিং কার্ড ও প্যাড লাগবে।
- স্টুডেন্টঃ আপনি যদি স্টুডেন্ট হয়ে মন্টিনিগ্রো টুরিস্ট ভিসা আবেদন করতে চান তাহলে আপনার স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটির অনুমতি পত্র ও স্টুডেন্ট আইডি কার্ডের কপি লাগবে।
ভিসা পেতে বিশেষ শর্ত
মন্টিনিগ্রো ভিসা পেতে অবশ্যই মন্টিনিগ্রো দেশের একজন বৈধ নাগরিকের প্রত্যয়িত গ্যারান্টিপত্র অথবা মন্টিনিগ্রো সরকার অনুমোদিত তাদের দেশের কোনো এজেন্সির আমন্ত্রণ পত্র লাগবে।
প্রো-টিপসঃ আপনার কোনো কাগজপত্র যেনো ডামি বা ভুয়া না হয় বিশেষ করে ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও পাবলিক নোটারি তাহলে ভিসা রিজেক্ট তো হবেই তার সাথে ইউরোপীয় দেশগুলোতে ভ্রমণে ব্ল্যাক লিস্ট হতে পারেন।
মন্টিনিগ্রো টুরিস্ট ভিসা পাওয়ার সাকসেস রেট কেমন?
যেকোনো দেশে ঘুরতে যাওয়ার আগে টুরিস্টদের সবার মনে একটি কমন প্রশ্ন আসে যে ভিসার সাকসেস রেট কেমন। তাই এই অংশে আমরা মন্টিনিগ্রো টুরিস্ট ভিসা পাওয়ার সাকসেস রেট কেমন তা জানাবো।
গ্যারান্টি লেটার বা আমন্ত্রণপত্র থাকলে সাকসেস রেট
বাংলাদেশিদের জন্য মন্টিনিগ্রো টুরিস্ট ভিসা আবেদন করলে আবেদনের ফাইলে যদি মন্টিনিগ্রোর নাগরিকদের গ্যারান্টি লেটার বা এজেন্সির আমন্ত্রণ পত্র থাকে তাহলে আপনার ভিসা পাওয়ার সাকসেস রেট অনেক বেশি হতে পারে।
ভ্রমণ রেকর্ড থাকলে
যদি ফ্রেশ বা নতুন পাসপোর্ট করে বাংলাদেশিদের জন্য মন্টিনিগ্রো টুরিস্ট ভিসা পাওয়া খুবই কঠিন কিন্তু পূর্বে যদি থাইল্যান্ড, মালদ্বীপ, দুবাই বা শেনজেন ভুক্ত রাষ্ট্রে ভ্রমণের রেকর্ড থাকে তাহলে ভিসা পাওয়ার সাকসেস রেট অনেক বেড়ে যায়।
শক্তিশালী আর্থিক অবস্থা
আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রচুর টাকা লেন দেন এবং বর্তমান ব্যালেন্স যদি অনেক বেশি বা পর্যাপ্ত থাকে তাহলে আবেদন চেক করী অফিসার বুঝতে পারে আর্থিক ভাবে আপনি মন্টিনিগ্রো গিয়ে সংকটে পড়বেন না। এই অবস্থায় ভিসা আবেদন অ্যাপ্রুভ করে দেয়ার সম্ভাবনা বা সাকসেস রেট অনেক বেশি বেড়ে যায়।
বাংলাদেশিদের জন্য মন্টিনিগ্রো টুরিস্ট ভিসা কেনো রিজেক্ট হতে পারে
- মন্টিনিগ্রো থেকে অর্জিনাল আমন্ত্রণ পত্র বা গ্যারান্টি লেটার সংগ্রহ না করে ভুয়া কাগজপত্র জমা দিলে ভিসা রিজেক্ট হবে।
- ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নিয়মিত পর্যাপ্ত টাকা লেনদেন নেই আবেদনের সময় হঠাৎ টাকা ঢুকেছে এমন হলে আবার ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দিলেও ভিসা আবেদন রিজেক্ট করে দিবে।
- আপনার দেয়া ভ্রমণ পরিকল্পনা এবং হোটেল বুকিং এই দুইটি তথ্য যদি না মিলে তাহলেও ভিসা রিজেক্ট হবে।
- এছাড়া আপনার সকল কাগজপত্র দেখার পরে ইমিগ্রেশন অফিসার যদি মনে করেন আপনি আর বাংলাদেশে ফিরে আসবেন না তাহলেও ভিসা রিজেক্ট করে দিতে পারে।
মন্টিনিগ্রো টুরিস্ট ভিসা ফি কত টাকা
বাংলাদেশিদের জন্য মন্টিনিগ্রো টুরিস্ট ভিসা আবেদন করতে মূলত দুই ধরনের ভিসা ফি দিতে হয়।
১/ অফিসিয়াল ফি
মন্টিনিগ্রো টুরিস্ট ভিসা অর্থাৎ শর্ট-স্টে ভিসা করতে হলে সরকারি ফি লাগবে ৩৫ ইউরো। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে শর্ট-স্টে ভিসার জন্য ৬০ ইউরো পর্যন্ত লাগতে পারে।
২/ ভিএফএস গ্লোবাল সার্ভিস চার্জ
বাংলাদেশিদের জন্য মন্টিনিগ্রো টুরিস্ট ভিসা আবেদন যেহেতু ভিএফএস গ্লোবাল সার্ভিস সেন্টারে করা হয় তাই সেখানকার ফি বা সার্ভিস চার্জ দিতে হবে। এখানে আপনাকে ৩০০০ থেকে ৪০০০ টাকা দিতে হতে পারে।
এছাড়াও আপনার ফাইলটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য যেহেতু আবুধাবিতে যাবে তাই সেখানে যাওয়ার জন্য ওয়ান ওয়ে বা টু ওয়ে কুরিয়ার খরচ দিতে হবে।
(বিশেষ সতর্কতাঃ ভিসার নিয়ম পরিবর্তনশীল তাই আবেদন করার আগে সর্বশেষ হালনাগাদ কৃত তথ্য ও ফি এর সংখ্যা অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখে নিবেন)
প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
প্রশ্ন ১: মন্টিনিগ্রো কি শেনজেন (Schengen)ভুক্ত দেশ?
উত্তর: মন্টিনিগ্রো এখনো শেনজেন চুক্তিভুক্ত দেশ হয়নি তবে আপনার কাছে শেনজেন বা যুক্তরাষ্ট্রের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা থাকলে কোনো ভিসা ছাড়াই মন্টিনিগ্রোতে ভ্রমণ করতে পারবেন।
প্রশ্ন ২: ভিসা আবেদনের জন্য কি দিল্লি যেতেই হবে?
উত্তর: বাংলাদেশিদের জন্য মন্টিনিগ্রো টুরিস্ট ভিসা আবেদন করতে দিল্লি বা অন্য কোনো দেশে যাওয়ার দরকার পড়েনা।
প্রশ্ন ৩: মন্টিনিগ্রো রাজধানীর নাম কি?
উত্তর: মন্টিনিগ্রো দেশের রাজধানীর নাম পডগোরিকা।
শেষকথা
ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য মন্টিনিগ্রো দেশ খুবই সুন্দর এবং শান্তির একটি দেশ। এই দেশের সৌন্দর্যের প্রেমে না পড়ে আপনি পারবেন না কারণ এই দেশে বুদবা সমুদ্র সৈকত বা তারা রিভার ক্যানিয়নের মতো গিরিপথ রয়েছে।
আমরা পুরো পোস্টে খুব ভালো করে আপনাদের জানানোর চেষ্টা করেছি ২০২৬ সালে বাংলাদেশিদের জন্য মন্টিনিগ্রো টুরিস্ট ভিসা আবেদন গাইড। আশা করি এই পোস্ট পড়ে উপকৃত হয়েছেন।
লেখক পরিচিতি,
নাম: মোঃ আব্দুর রাকিব
আমি একজন প্রফেশনাল কনটেন্ট রাইটার। আমি সবসময় অফিসিয়াল তথ্য ভেরিফাই করে কনটেন্ট তৈরি করি।
ভিসা ও ট্রাভেল সম্পর্কে আরো পড়ুনঃ