চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন হোল্ডিং ট্যাক্স দেখার ও পরিশোধের নিয়ম ২০২৬
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন হোল্ডিং ট্যাক্স দেখার ও পরিশোধের নিয়ম ২০২৬ সালে ঘরে বসে দেখুন আমাদের এই পোস্টের মাধ্যমে। একজন সিটি কর্পোরেশনের নাগরিক হিসেবে আপনাকে অবশ্যই সিটি কর্পোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করতে হবে নিয়মিত।
হোল্ডিং ট্যাক্স কী?
হোল্ডিং ট্যাক্স হলো এমন এক ধরনের কর বা ট্যাক্স যা আপনাকে আপনার বাসা বাড়ি, বাণিজ্যিক কোনো স্থাপনা থাকলে তার জন্য সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদের নির্দিষ্ট পরিমান টাকা দিতে হয়।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন হোল্ডিং ট্যাক্স দেখার নিয়ম এবং চসিকের হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করার নিয়মসহ বিস্তারিত তথ্য জানবো পুরো আলোচনায়।
পূর্বে কর আদায়কারীদের অনিয়মের ফলে কর দেয়া সাধারণ মানুষদের ভোগান্তি চরমে ছিলো। এর উপর অনেক সময় নষ্ট হতো তখনকার সময়ে। জনগণের এই দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে চসিক সম্পূর্ণ অনলাইন ভিত্তিক ট্যাক্স বা কর সিস্টেম চালু করেছে।
বর্তমানে বাসায় বসে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নাগরিক হিসেবে অনলাইনে সিটিজেন পোর্টালের (CCC Citizen's Portal) মাধ্যমে সহজেই হোল্ডিং ট্যাক্স বা গৃহ কর প্রদান করতে পারবেন।
এই পোস্টে আমরা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন হোল্ডিং ট্যাক্স দেখার নিয়ম ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের নিয়ম জানাবো ২০২৬ সালের আপডেটের সাথে।
চসিক হোল্ডিং ট্যাক্স রেট বা কর নির্ধারণের নিয়ম
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নিয়ম অনুযায়ী তারা একটি বাড়ির বাৎসরিক মূল্যায়িত ভাড়ার উপর সর্বমোট ১৭% হোল্ডিং ট্যাক্স বা গৃহ কর দিতে হবে। ১৭% এর মধ্যে হোল্ডিং ট্যাক্স বা গৃহ কর হিসেবে ৭% নিয়ে থাকে।
বাকি ১০% এর মধ্যে ৩% বিদ্যুৎ কর অর্থাৎ রাস্তার দুইপাশে বা অনেক রাস্তার একপাশে যেই লাইট জ্বলে সেটির কর ও ৭% সিটি কর্পোরেশন এলাকার ময়লা অপসারণ কর।
ট্যাক্স হিসাব করার পদ্ধতি
আগের সময়ে ট্যাক্স বা গৃহ কর হিসাব করা হতো আপনার ভবন কতোটুকু জায়গার উপর নির্মাণ করা হয়েছে সেই অনুযায়ী অর্থাৎ স্কয়ার ফিট হিসেবে।
কিন্তু বর্তমানে এই নিয়মে পরিবর্তন এসেছে এখন একটি বিল্ডিংয়ের বা ভবনের মোট বার্ষিক আয় (Rental Income) এর উপর নির্ভর করে ট্যাক্স হিসাব করা হয়।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পুনঃমূল্যায়ন পদ্ধতি: প্রতি পাঁচ বছর পর পর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন হোল্ডিং ট্যাক্স পুনরায় নির্ধারণ করে থাকে রেন্টাল ইনকামের উপর।
অনলাইনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন হোল্ডিং ট্যাক্স দেখার নিয়ম
আমরা এই অংশে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন হোল্ডিং ট্যাক্স দেখার নিয়ম ধাপে ধাপে জানবো।
ধাপ-১: প্রথমে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সিটিজেন পোর্টালে প্রবেশ করুন। পূর্বের অ্যাকাউন্ট করা না থাকলে পোর্টালের নিচে "Create One" বাটনে ক্লিক করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলুন।
ধাপ-২: অ্যাকাউন্ট খোলার পরে পোর্টালে লগইন করে মেনুবারে ক্লিক করলে আপনার সামনে হোল্ডিং ট্যাক্স অপশন চলে আসবে সেখানে ক্লিক করুন।
ধাপ-৩: এবার এখানে ৮ টি আলাদা আলাদা অপশন দেখতে পাবেন যেগুলি হোল্ডিং ট্যাক্স সম্পর্কিত বিভিন্ন কাজে লাগে। আমরা হোল্ডিং ট্যাক্স দেখবো যার জন্য বকেয়া বিনরণীতে ক্লিক করবো।
ধাপ-৪: বকেয়া বিবরণীতে ঢুকার পরে আপনি আপনার ই-হোল্ডিং নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান বাটনে ক্লিক করলে আপনার হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া বা গৃহ কর কতো টাকা বকেয়া আছে দেখতে পারবেন।
ঘরে বসে হোল্ডিং ট্যাক্স অনলাইনে পরিশোধের নিয়ম
উপরের অংশে ২০২৬ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন হোল্ডিং ট্যাক্স দেখার নিয়ম ধাপে ধাপে জেনেছি। এবার আমরা জানবো ঘরে বসে হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের নিয়ম।
ধাপ-১: উপরের অংশে দেয়া চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সিটিজেনস পোর্টালে গিয়ে অ্যাকাউন্ট করে নিন। অ্যাকাউন্ট করতে প্রথমে পোর্টালে ঢুকে Create One এ গিয়ে মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল দিয়ে সাবমিট করতে হবে।
এর পরের আপনার নাম দিবেন, মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল ডিফল্ট থাকবে যেগুলি প্রথমে দিয়েছিলেন। এর পরে পাসওয়ার্ড ও ওটিপি দিয়ে সাবমিট দিলে আপনার অ্যাকাউন্ট রেডি হয়ে যাবে। মনে রাখবেন একটি সিটিজেন পোর্টাল দিয়ে একই পরিবারের একাধিক হোল্ডিং ম্যানেজ করা যায়।
ধাপ-২: পোর্টালে ঢুকে মেনুবার থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স অপশনে ক্লিক করুন এবং বকেয়া বিবরণীর নিচে কুইক পে তে ক্লিক করুন।
ধাপ-৩: কুইক পে তে ঢুকলে আপনার সামনে নতুন পেজ খুলবে যেখানে ই-হোল্ডিং নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান বাটনে চাপ দিতে হবে তাহলে আপনার সামনে বকেয়া এবং বর্তমান হোল্ডিং ট্যাক্স বা গৃহ কর ভেসে উঠবে।
মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহারের মাধ্যমে এখান থেকে কয়েক মিনিটে আপনার গৃহ কর পরিশোধ করতে পারবেন। বিকাশ, রকেট বা নগদ যেকোনো একটা সিলেক্ট করে পেমেন্ট করলে আপনার কাজ শেষ।
ধাপ-৪: অনলাইন পেমেন্ট সম্পূর্ণ হলে অবশ্যই ই-রিসিট বা ডিজিটাল পেমেন্ট রশিদ ডাউনলোড করে সংগ্রহ করে রাখবেন এটা ভবিষ্যতে আপনার প্রয়োজন পড়তে পারে।
নতুন হোল্ডিং নম্বর ও নামজারি (Mutation) করার নিয়ম
আপনি যখন চসিক এলাকায় নতুন বসত বাড়ি বা বাণিজ্যিক ভবন করেন তাহলে প্রথমেই আপনাকে নিজের নামে রেকর্ড করাতে হবে এবং হোল্ডিং নম্বর করিয়ে নিতে হবে আর এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় হোল্ডিং নামজারি করা।
হোল্ডিং নামজারি করতে সাধারণত কোনো আবেদন ফর্ম লাগেনা এটি করতে হয় একটি সাদা কাগজে এপ্লিকেশনের মাধ্যমে। সাদা কাগজে চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করতে হয়।
আপনার আবেদন সাবমিট হওয়ার পরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বশীল একজন আপনার ভবনটি নিজে এসে দেখে যাবে।
তারা দেখবেন আপনার ভবনটি আবাসিক না বাণিজ্যিক এবং ভবনের আয়তন কেমন এবং আবেদনে দেয়া তথ্যের সাথে বাস্তব মালিকের তথ্যের মিল আছে কিনা।
পরিদর্শনের রিপোর্ট অনুযায়ী ডেপুটি চিফ রেভিনিউ অফিসার ভবনটির বার্ষিক মূল্য এবং ১৭% চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ করে দিবেন।
নতুন হোল্ডিং নম্বর বা নামজারি আবেদনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
সাদা কাগজে এপ্লিকেশন বা আবেদন করলেই দায়িত্ব শেষ হয়না আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র দরকার হয় যেমন, জায়গার যে আসল মালিক আপনি তা প্রমাণ করতে জায়গার দলিল, খতিয়ান, নামজারি পর্চা এবং ভবনের জন্য সরকারি অনুমোদিত প্ল্যান।
আপনার জন্য আরো কিছু দরকারী গাইডঃ
- BRTA বিএসপি অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে রিকভার করার নিয়ম
- বিআরটিএ ড্রাইভিং লাইসেন্স ভাইভা পরীক্ষায় কি কি জিজ্ঞেস করে?
ট্যাক্স ভুল আসলে আপিল এবং সারচার্জ মওকুফ
ট্যাক্স ভুল আসলে কিভাবে আপিল করবেন জানুনঃ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর ট্যাক্স নির্ধারণে যদি কোনো ভুল থাকে আর সেখানে আপনার আপত্তি থাকে তাহলে আপনি একজন ভবনের মালিক হয়ে চসিকের রিভিউ বোর্ড অথবা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করতে পারবেন।
সারচার্জ বা জরিমানা মওকুফঃ আপনি যদি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ না করেন তাহলে সারচার্জ বা বিলম্ব ফি বা জরিমানা যুক্ত হয় মূল টাকার সাথে৷ চসিক মাঝে মধ্যে নাগরিকদে নিরবিচ্ছিন্ন সুবিধা দিতে এই সারচার্জ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মওকুফ করে থাকে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা বা FAQ
প্রশ্ন ১: চসিক হোল্ডিং ট্যাক্স প্রতি বছর কোন সময়ের মধ্যে দিতে হয়?
উত্তর: চসিক বা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন হোল্ডিং ট্যাক্স প্রতি বছর জুনের মধ্যে দিতে হয় তবে আপনি চাইলে তিন মাস পরপর অর্থাৎ ৪ টি কিস্তিতে দিতে পারবেন।
প্রশ্ন ২: একটি অ্যাকাউন্টে কি একাধিক হোল্ডিং ট্যাক্স দেওয়া সম্ভব?
উত্তর: হ্যাঁ, চসিক এর বিদ্যমান আইন অনুযায়ি সিটিজেনস পোর্টাল থেকে একটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে নিজের নামে থাকা একাধিক বাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্স বা গৃহ কর দেয়া সম্ভব।
প্রশ্ন ৩: হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের রসিদ কোন কোন কাজে লাগে?
উত্তর: নতুন ব্যবসা করতে চাইলে ট্রেড লাইসেন্স করতে, ব্যাংক থেকে লোন পেতে হলে এবং প্রোপার্টির নামজারি বা ক্রয় বিক্রয় করতে হোল্ডিং ট্যাক্স বা গৃহ কর পরিশোধের রশিদ কাজে লাগে।
প্রশ্ন ৪: অনলাইন পেমেন্টে কোনো সমস্যা হলে চসিক রাজস্ব বিভাগে কীভাবে যোগাযোগ করব?
উত্তর: অনলাইনে পেমেন্টে বা আবেদনে কোনো সমস্যা হলে চসিক প্রদত্ত এই নম্বর ও মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করুনঃ হেল্পলাইন নম্বর: ০২৩৩৩৩৮৮৮১৭, ০২৩৩৩৩৮৮৮১৮, ০২৩৩৩৩৮৮৮১৯
অফিশিয়াল ইমেইল: info@ccc.gov.bd, programmer@ccc.gov.bd
ফ্যাক্স নম্বর: ০২৩৩৩৩৮৮৮০৩
প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, টাইগারপাস, চট্টগ্রাম।
প্রো টিপসঃ হোল্ডিং ট্যাক্স সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য পেতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আপনার জোনের অফসে যোগাযোগ করুন। দালাল বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে করবেন না আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন।
সকল কাজ নিজে করুন এতে কোনো কিছু বুঝতে না পারলে আমাদের মেইল দেয়া আছে যোগাযোগ করুন সহায়তা প্রদান করবো।
শেষকথা
আশা করি আমাদের এই পোস্ট পড়ে জানতে পেরেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন হোল্ডিং ট্যাক্স দেখার ও পরিশোধের নিয়ম ২০২৬। ট্যাক্স পরিশোধ ব্যবস্থা যখন ম্যানুয়ালি করা হতো তখন নাগরিক সেবা ব্যহত হতো।
কিন্তু বর্তমানে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করে ট্যাক্স দেয়ার ফলে অনলাইনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্যাক্স গ্রহন সম্ভব হচ্ছে যার ফলে দুর্নীতি কমে গেছে এবং নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি পেয়েছে।
আগে একজন নাগরিকের হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করতে অনেক বিড়ম্বনায় পড়তে হতো এখন বাসায় বসে অনলাইনে কয়েক মিনিটের মধ্যে হোল্ডিং ট্যাক্স বা গৃহ কর দিতে পারছে।
চসিকের আরো সেবাঃ








Comments
Post a Comment